
পুলিশ সদস্যদের আত্মহননের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে সামনে আসছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১৩ জন এবং ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত আরও ৮ জন পুলিশ সদস্য আত্মহনন করেছেন। আর ২০১৯ সাল থেকে গত সাড়ে সাত বছরে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫ জনে।
পুলিশের নথিতে এসব ঘটনার বড় অংশের কারণ হিসেবে পারিবারিক কলহ, দাম্পত্য সমস্যা ও মানসিক চাপের কথা উঠে এসেছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, সেই পারিবারিক অশান্তি বা মানসিক চাপের পেছনে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, পর্যাপ্ত ছুটির অভাব, অনিশ্চিত পদোন্নতি, বদলি, আবাসন সমস্যা কিংবা কর্মক্ষেত্রের চাপ কতটা ভূমিকা রাখছে?
মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেককে দিনে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। অন্যদিকে ২৯২ পুলিশ সদস্যকে নিয়ে করা একটি জরিপে ৯৮ শতাংশ দায়িত্ব পালনের সময় কোনো না কোনো মানসিক চাপ অনুভব করার কথা জানিয়েছেন। ৯১ শতাংশ বলেছেন পরিবারের সঙ্গে পর্যাপ্ত সময় কাটাতে না পারার কারণে চাপ তৈরি হয়, ৮৩ শতাংশের ঘুমের সমস্যা রয়েছে এবং ৯৫ শতাংশ কাউন্সেলিংয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
আরও উদ্বেগের বিষয়, মানসিক সমস্যার কথা প্রকাশ করলে পদোন্নতি বা ভালো পদায়নে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, এমন আশঙ্কায় অনেক সদস্য নীরব থাকেন বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ফলে প্রতিটি ঘটনাকে শুধু ‘পারিবারিক কলহ’ বা ‘মানসিক অশান্তি’ হিসেবে নথিভুক্ত করলেই কি সমস্যার সমাধান হচ্ছে? নাকি পুলিশ সদস্যদের কর্মঘণ্টা, ছুটি, আবাসন, আর্থিক চাপ এবং নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্যসেবার মতো বিষয়গুলো নিয়েও গভীর অনুসন্ধান প্রয়োজন?
মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের নিজেদের মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।